যুদ্ধ চলছে ইউক্রেনে, দুইদিন ধরে তেল নেই বরিশালে

আজ বুধবার টানা সাতদিন ধরে যুদ্ধ চলছে রাশিয়া-ইউক্রেনের। কিন্তু তার প্রভাব পড়েছে কয়েক হাজার মাইল দূরত্বের আরেক দেশের জেলা শহর বরিশালে। গত দুইদিন ধরে স্থানীয় বাজারগুলোতে নেই সয়াবিন তেল। বোতলজাত কয়েক দোকানে পাওয়া গেলেও বোতলে লেখা দামের চেয়ে বেশি দাম আদায় হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে হঠাৎ করেই বরিশালের বাজারে ভোজ্যতেলের সংকট দেখা দিয়েছে। খোলা বাজারে দুইদিন ধরে পাওয়া যাচ্ছে না সয়াবিন তেল। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের হস্তক্ষেপ চান ভোক্তারা। এদিকে তদারকি জোরদার করে বাজার নিয়ন্ত্রণে ‍আনার কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। ব্যবসায়ীদের দাবি, ব্যারেল প্রতি ২ থেকে ৫ হাজার টাকা বেড়ে যাওয়ায় বন্ধ করেছেন খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি।

এদিকে বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ না থাকার কথা জানিয়ে ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে খোলা তেলের দাম এক থেকে ২ হাজার টাকা বেশি। বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। কোম্পানি তেল দেয় না। ১০ কার্টন তেল চাইলে আমাদের দুই কার্টন তেল দেয়।

পাইকারি বিক্রেতাদের দাবি, ‍২০০ লিটার সয়াবিন তেলের ব্যারেলের দাম এক সপ্তাহ আগে ২৮ হাজার টাকা থাকলেও এখন ৩৩ হাজার টাকা। কোম্পানিকে ‍অগ্রিম টাকা দিয়েও তেল না পাওয়ার দাবি পাইকারদের। এ বিষয়ে মেসার্স মোল্লা ব্রাদার্সের পাইকারি তেলের বিক্রেতা মো. শুকুর ‍আলী মোল্লা বলেন, সিটি মিল পণ্য দিচ্ছে। তবে তা পেতে এক মাস সময় লাগছে। অপরদিকে রমজানের একমাসে আগেই বরিশালে সয়াবিন তেল উধাও হওয়াতে কপালে ভাঁজ পড়েছে ভোক্তাদের। দ্রব্য মূল্য সিন্ডিকেটের কবলে পড়ছে মনে করে বাজার নিয়ন্ত্রণের দাবি ক্রেতাদের।

এদিকে দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওযার অভিযোগ করে ক্রেতারা বলেন, এ রকম দফায় দফায় তেল বা যেকোনো জিনিসের দাম যদি অহেতুক বাড়ে, অযৌক্তিকভাবে বাড়ে, তাহলে সেটা অবশ্যই আমাদের জন্য অসহনীয়। অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়ার কারণে আমরা আগে যে পরিমাণ কিনতাম, তার তুলনায় কম কিনতে হচ্ছে। তবে জেলা প্রশাসন বলেছে, তদারকি আরও জোরদার করে দ্রুতই বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।

এ বিষয়ে বরিশালের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, কেউ যদি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করতে চায়, তাহলে আমরা সরেজমিনে সে বিষয়টি যাচাই বাছাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এদিকে গত দুইদিন ধরে বরিশালে খোলা বাজারে সয়াবিন তেল উধাও হলেও, এখনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি প্রশাসনের।