মন্দিরে আ.লীগ নেতাকর্মীদের পাহারা দেওয়ার নির্দেশ কাদেরের

এবার শুরু হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গা পূজা। এ উপলক্ষ সুষ্ঠুভাবে আয়োজন ও পালনের জন্য মন্দিরে-মণ্ডপে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সতর্কভাবে পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

এ সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সাম্প্রদায়িক শক্তি প্রকাশ্যে যতটা নিষ্ক্রিয়; ভেতরে ভেতরে ততটা সক্রিয় আছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগের বছরের বিভিন্ন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এবার সরকার সতর্ক রয়েছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, এই দুর্গোৎসবে সক্রিয়ভাবে দরকার হলে মন্দিরে মন্দিরে পাহারায় থাকার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নেতাকর্মীরা থাকবে এটা আশা করি। সতর্ক ও সক্রিয় থেকে সব ধরনের উদ্বেগ দূর করার আহ্বান জানাচ্ছি। আপনারা আতঙ্কিত হবেন না, উদ্বিগ্ন হবেন না। আমরা আপনাদের পাশে আছি। গতবারের দুর্ভাগ্যজনক অভিজ্ঞতা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, সারা দেশর মন্দিরে মন্দিরে, মণ্ডপে মণ্ডপে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সতর্কভাবে পাহারা দিতে হবে। শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে নির্দেশ দিচ্ছি। আওয়ামী লীগ মনে প্রাণে চিন্তা চেতনায় একটি অসাম্প্রদায়িক দল এবং আমাদের প্রায় প্রতিদিনের বক্তব্যে আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনার যে বিষয়টি আমরা ধারণ করি এবং সভা-সমাবেশে, বিক্ষোভে দৃঢ় কণ্ঠে উচ্চারণে আমরা কখনো দিধাগ্রস্থ হই না।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের ১৩ বছরের মধ্যে গতবার ব্যতিরেকে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। ১২ বছর কোনো দুর্গাপূজায় সামান্যতম কোনো বিশৃঙ্খলা-সন্ত্রাস কোনো ঘটনাই ঘটেনি। মাঝে মাঝে কিছু কিছু ঘটনা ঘটেছে। গতবার সতর্কতার একটা ঘাটতি ছিল। কারণ, সময়টা এখন সাম্প্রদায়িক শক্তি, জঙ্গিবাদী শক্তি, তারা বাইরে তাদেরকে যতটা নিষ্ক্রিয় মনে হয়, ভেতরে ভেতরে তারা তার চেয়ে সক্রিয়। এ রকম একটা বাতাবহ দেশে আছে। অস্বীকার করার উপায় নেই।

তিনি বলেন, কুমিল্লায় যেটা ঘটেছে বীভৎস, চৌমুহনীতে যা ঘটেছে তা আরও ভয়ানক। এছাড়া রংপুরে, সিলেটে, সুনামগঞ্জের নাসিরনগরে অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন দলীয় পরিচয়ে দুর্বৃত্তরা এই ধরনের ঘটনা ঘটায়। আমি মনে করি যারা এই ধরনের ঘটনা ঘটায়, যে পরিচয়েই হোক তাদের একমাত্র পরিচয় হচ্ছে দুর্বৃত্ত। এরা বিভিন্ন পরিচয়ে আওয়ামী লীগ পরিচয়েও দুর্বৃত্ত আছে, দলের পরিচয় ব্যবহার করে অনেক দুর্বৃত্ত এসব ঘটনা ঘটিয়েছে। বিভিন্ন জেলায় লক্ষ্য করেছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের সবচেয়ে বড় যে উৎসব সেই উৎসবকে সামনে রেখে আতঙ্কে থাকবে, উদ্বিগ্ন থাকবে, এটা হতে পারে না। ভোট হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবার ভোটেরই মূল্য সমান। আপনারও ভোটার এদেশের নাগরিক আপনারা দ্বিতীয়, তৃতীয় শ্রেণির নাগরিক এটা কারোরই মনে করা উচিত না। কারও ভোটের মূল্য বেশি; কারও ভোটের মূল্য কম নয়।