ভোটের মাঠে দুই সতিনের লড়াই, হাসপাতালে স্বামী

গত বেশ কিছুদিন ধরে স্বামী অসুস্থ, চিকিৎসা নিচ্ছেন হাসপাতালে। এদিকে নির্বাচনীয় লড়াইয়ে দুই সতীন। জেলা পরিষদ নির্বাচনে নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার (১ নং ওয়ার্ডের) সাধারণ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আনোয়ারা বেগম ও সুরমি আক্তার সুমি নামের দুই সতিন। এই দুই প্রতিযোগী সীমান্তবর্তী দুর্গাপুর পৌরসভার মেয়র ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ী আলা-উদ্দীন আলালের স্ত্রী। আনোয়ারা লড়ছেন তালা প্রতীক নিয়ে, আর ছোট স্ত্রী সুমি লড়ছেন অটোরিকশা প্রতীক নিয়ে।

জানা গেছে, আনোয়ারা ও সুমির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বৈরি সম্পর্ক ছিল। আনোয়ার আলাদা থাকেন দুর্গাপুরের আত্রাখালী এলাকায়। আর সুমি আলালের সঙ্গে তার টেরিবাজারের বাড়িতে থাকে। আনোয়ারা তার নির্বাচনী পোস্টারে তার স্বামীর নাম ও পরিচয় উল্লেখ করেছেন। কিন্তু সুমি এসব কিছুই উল্লেখ করেননি। তবে ওই আসনে দুই নারী ছাড়াও দুই পুরুষ প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- জুয়েল মিয়া ও আব্দুল করিম।

এদিকে একই পদে দুই সতীনের প্রতিযোগিতার বিষয়ে জানতে চাইলে সুমি বলেন, ‘আমার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে আমার জন্য কাজ করছেন। তাছাড়া আমি পারিবারিক সিদ্ধান্তে আমি প্রার্থী হয়েছি। স্বামী আলাল সাহেবের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আনোয়ারা বেগকে মনোনয়ন দেয়। যে স্বামী ভালো চায় না, সে সম্পর্কে আমার কোনো মন্তব্য নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৯ দিন ধরে তিনি স্বামীর সঙ্গে হাসপাতালে আছেন। এদিকে তার স্বামীর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আত্মীয়স্বজন ও পৌরসভার লোকজন তার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন।’

অন্যদিকে আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আলাল সাহেব তার দ্বিতীয় স্ত্রীর (সুমি) সঙ্গে থাকেন। আর আমি আলাদা থাকি। মহিলা যা বলে সে তাই করে। তার স্ত্রী হিসেবে আমিও দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।’

এদিকে মেয়র আলাউদ্দিন আলাল বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ। মাথায় গুরুতর আঘাতসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন তিনি। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ অবস্থায় তার দুই স্ত্রীর মধ্যে বৈরিতার বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।