বিয়ের দাবিতে পুলিশ সদস্যের বাড়িতে কলেজছাত্রীর অনশন

বিয়ের দাবিতে গাজীপুরের শ্রীপুরে এক পুলিশ সদস্যের বাড়িতে ৪ দিন ধরে অনশন করছেন এক কলেজছাত্রী। ওই পুলিশ সদস্যের নাম মো. জাহাঙ্গীর আলম। ওই কলেজছাত্রী বাড়ি আসার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যান পুলিশ সদস্য। ৪ দিন ধরে অনশনে থাকায় শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ওই কলেজছাত্রী।

গত বৃহস্পতিবার (৫ মে) থেকে ওই ছাত্রী বিয়ের দাবিতে জাহাঙ্গীরের বাড়িতে অনশন করছেন। জাহাঙ্গীরের বাড়ি শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের সোনাব গ্রামে। তিনি পুলিশের কনস্টেবল পদে কর্মরত। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামে কর্মরত আছেন।

অন্যদিকে ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী ঠাকুরগাঁওয়ের একটি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি তার বোনের বাড়িতে থেকে পড়ালেখা করেন। এ প্রসঙ্গে কলেজছাত্রী বলেন, চার বছর ধরে পুলিশ সদস্য জাহাঙ্গীরের সঙ্গে আমার প্রেমের সম্পর্ক। হঠাৎ করে সে আমার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এদিকে আমার পরিবার অন্য ছেলের সঙ্গে আমার বিয়ে দিতে চাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে আমি তার বাড়িতে চলে এসেছি। আজ চার দিন চলছে, না খেয়ে আছি। যতক্ষণ পর্যন্ত সে আমাকে বিয়ে না করবে ততক্ষণ এ বাড়িতেই থাকব। প্রয়োজনে আমার লাশ যাবে এ বাড়ি থেকে।

তিনি আরও বলেন, আমি এখানে আসার সঙ্গে সঙ্গে জাহাঙ্গীর বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। সে আমাকে চেনে না বলে তার পরিবারকে বলে যায়। এরপর পুলিশ সদস্যের ভাই-বোন আমাকে মারধর করে আহত করে। তাকে বিয়ে ছাড়া আমার বিকল্প কোনো রাস্তা খোলা নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই মেয়ের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। স্থানীয় কিছু মানুষ মেয়েকে দিয়ে আমার সঙ্গে প্রতারণা করছে। তবে মাঝে মধ্যে এই মেয়ের সঙ্গে কথা হতো কিন্তু প্রেম ছিলনা।

কাওরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আলম খান বলেন, এ বিষয়ে দুই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসা হয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি ছেলের পরিবার সমাধান করছে না।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, মেয়ের পরিবারের পক্ষে এখন পর্যন্ত কেউ অবগত করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছেলের বাবা একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় এসেছিলেন।