বঙ্গবন্ধু দিয়েছেন স্বাধীনতা, শেখ হাসিনা দিচ্ছেন অর্থনৈতিক মুক্তি: বাণিজ্যমন্ত্রী

আজ বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য সারাজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ দিয়ে গেছেন। আজ তাঁরই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী আজ রবিবার ৭ আগস্ট ঢাকায় এফবিসিসিআই অডিটোরিয়ামে দ‌্য ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ‌্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধুর অর্থনীতি ও বাণিজ্য ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

এফবিসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট মো. জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিষয়ের উপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বেঙ্গল গ্রুপের চেয়ারম্যান মোর্শেদ আলম এবং এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন।

এদিকে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এম. মাহফুজুর রহমান, ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ‌্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট রিজওয়ান রহমান, এফবিসিসিআই’র প্যানেল উপদেষ্টা ড. মোস্তফা আবিদ খান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট মো. জসিম উদ্দিন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী দিনরাত কাজ করছেন দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য। ভারত পাকিস্তান ভাগের সময়ই বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন, পাকিস্তান বাঙালি জাতির জন্য সৃষ্টি হয়নি। এর মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু তখনই বাঙালি জাতির স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য কাজ শুরু করেন। ছয় দফা ঘোষণার মাধ্যই তা পরিষ্কার হয়ে যায়। ছয় দফার মধ্যে তিন দফাই ছিল বাঙালি জাতির অর্থনৈতিক মুক্তির বিষয়ে। ছয় দফার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু পুরো বাঙালি জাতিকে এক কাতারে দাঁড় করিয়েছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেই বঙ্গবন্ধু দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ শুরু করেন। কিন্তু তিনি বাঙালি জাতির অর্থনৈতিক মুক্তির কাজ শেষ করতে পারেননি। আজ তাঁরই কন্যা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নে সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমে আমরা আজ বিশ্বের মধ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পেরেছি। পদ্মা সেতু নিজ অর্থে তৈরি করে বাংলাদেশ ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। মেট্রোরেল, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, কর্ণফুলী টালেনসহ অনেক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশ এখন একটি শক্তিশালী অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান। সারা বিশ্ব উন্নয়নের প্রশংসা করছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করেন। মানুষের অকল্যাণের জন্য কোনও কাজ করেন না। চলমান বিশ্ব পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য অনেক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে সরকার বাধ্য হচ্ছে। এগুলো খুবই সাময়িক। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। দেশ স্বাভাবিক গতি ফিরে পাবে। দেশে স্বাধীনতা বিরোধীরা এখনও সক্রিয় আছে। তারা বিভিন্নভাবে দেশের ক্ষতি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন ইস্যুতে। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আমরা দেশের মানুষকে সাথে নিয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করে যাবো।