প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর আমরাই স্থগিত করেছি: মোমেন

এবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্থগিত করা হয়েছে। এ সফরের জন্য টোকিও প্রস্তুত রয়েছে। সফর স্থগিত করার পেছনে জাপানের অভ্যন্তরীণ নানা কারণ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। গতকাল রবিবার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে এক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা জানান।

এ সময় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের রাতে পুলিশ ব্যালট বাক্স ভর্তি করেছে- ঢাকার জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকির এমন মন্তব্য নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাকে কোনো দুষ্ট লোক ভুল তথ্য দিয়েছে। তিনি সাদাসিধে মানুষ। তিনি বাংলাদেশের ভালো বন্ধু। এটি নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন নয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতা ও করোনার প্রকোপ বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর সফর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্থগিত করা হয়েছে। সরকার একাধিক কথা চিন্তা করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাওয়াত দিয়েছেন। এ দাওয়াতটা আমরা দুই বছর আগে পেয়েছিলাম। কভিডের কারণে যাওয়া যায়নি। এবার সব চূড়ান্ত হলো। আমরা এবার যেতে চেয়েছিলাম। জাপান বারবার অনুরোধও করেছিল। কিন্তু সম্প্রতি জাপান সরকারের মধ্যে একটা অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পর পর তিনজন প্রভাবশালী মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন।

তিনি বলেন, এর মধ্যে আমরা খবর পেয়েছি, জাপানের সংসদে কিছু প্রস্তাব আসবে দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে। তিনি খুব ব্যস্ত আছেন। দ্বিতীয় কারণটি হচ্ছে কভিড। জাপানে এখনও কভিডের জন্য কোয়ারেন্টাইন করতে হয়। তারা ১০ জনের মতো সফরসঙ্গীকে করোনার বিধিনিষেধের বাইরে রাখার অনুমতি দেবে। আমরা তো বিশাল দল যাব। ব্যবসায়ীরা অনেকে যাবেন। আমরা ব্যবসায়ীদের নিয়ে যেতে চাই, যেন আমাদের দেশে বিনিয়োগ বাড়ে। আগামী বছর আমরা অবশ্যই জাপানে যাব।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সফর স্থগিত নিয়ে অন্য কোনো চিন্তাভাবনা না করার পরামর্শ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ নিয়ে নানা ভাষ্য প্রচারকারীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাদের সুস্থ মস্তিস্কের অভাব রয়েছে। জাপানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক গভীর। জাপান আমাদের ভালো বন্ধু। জাপানের কাছে বাংলাদেশের বাজেট ঋণ চাওয়া নিয়ে জানতে চাইলে ড. মোমেন বলেন, এসব আমি জানি না। এগুলো আপনারই জানেন। আমাদের কোনো (সহায়তা) প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশের অর্থনীতি বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে।