এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। চলতি সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৮৮ রানের বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এর আগে প্রথম ম্যাচে আফিফ-মিরাজ নৈপূণ্যে ৪ উইকেটের জয় পেয়েছিল রাসেল ডোমিঙ্গোর শিষ্যরা। শুরুতে ব্যাট করে লিটন দাসের সেঞ্চুরি ও মুশফিকুর রহিমের হাফসেঞ্চুরিতে ভর করে ৩০৬ রানের বড় সংগ্রহ পেয়েছিল বাংলাদেশ দল। জবাবে ৪৫.১ ওভারে ২১৮ রানেই অলআউট হয় আফগানরা।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ। শরিফুল ইসলামের বলে রান নিতে গিয়ে আফিফের থ্রোতে আউট হন নন স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা রিয়াজ। ২ বলে ১ রান করে ফেরেন রিয়াজ। স্কোরকার্ডে ৭ রান যোগ হতেই হাসমতুল্লাহ শহীদিকে(৫) ফেরান শরিফুল ইসলাম। এরপর দলীয় ৩৪ রানে আজমতুল্লাহ ওমরজাইকে ফেরান সাকিব আল হাসান। আজমতুল্লাহ ফেরেন ১৬ বলে ৯ রান করে।

৩৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর প্রতিরোধ গড়েন রহমত শাহ ও নাজিবুল্লাহ জাদরান। জাদরান ২৩ রানে মিরাজের বলে রিভিউ নিয়ে জীবন পান। এরপর দুজনের জুটিতে দলীয় ১০০ পার করে আফগানিস্তান। অবশেষে দলীয় ১২৩ রানে রহমতকে বোল্ড করে প্রতিরোধ ভাঙলেন তাসকিন। ৭১ বলে ৪ চারে ৫২ রান করেন তিনি। তার আউটে ভেঙে যায় ৮৯ রানের জুটি।

দলীয় ১৪০ রানে অর্ধশতক করা নজিবুল্লাহ জাদরানকে ফেরালেন তাসকিন। ৭ চারে ৬১ বলে ৫৪ রান করে জাদরান মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসে ধরা পড়েছেন। ইনিংসের ৩২তম ওভারে সাকিবের ঘূর্ণিতে ভাঙলো গুরবাজের স্ট্যাম্প। ১৫ বলে ১ চারে ৭ রান করেন তিনি। দলীয় ১৮৪ রানে নবীকে থামালেন মিরাজ। তার বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে লং অফে আফিফের হাতে ধরা পড়লেন মোহাম্মদ নবী। ৪০ বলে ৩২ রান করেন এই অলরাউন্ডার।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগার দলপতি তামিম ইকবাল। শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাট চালিয়েছেন তামিম। কিন্তু বেশিদূর লম্বা হয়নি অধিনায়কের ইনিংস। প্রথম ম্যাচের মত এই ম্যাচেও ফারুকির বলে পরাস্থ হলেন তামিম। সপ্তম ওভারে তার দ্বিতীয় বলে এলবিডব্লু হয়ে ফিরলেন তামিম। রিভিউ নেন তামিম, কিন্তু তার পক্ষে যায়নি। ২ চারে ২৪ বলে ১২ রান করেন এই ওপেনার।

তামিমকে হারানোর পর জুটি গড়তে থাকেন সাকিব-লিটন। দুজনের জুটিতে বড় কিছুর আশা দেখলেও নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি সাকিব। রশিদ খানের ফাঁদে এলবির শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন দেশসেরা এই অলরাউন্ডার। সাকিবের বিদায়ে ভেঙে যায় লিটনের সঙ্গে তার ৫৩ বলে ৪৫ রানের জুটি। ২ চারে ৩৬ বলে ২০ রান করেন সাকিব। ১৯.৪ ওভারে দলীয় শতরান পূর্ণ করে বাংলাদেশ। রশিদ খানের বলে দুর্দান্ত এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলকে শতক পাইয়ে দিলেন লিটন। এরপর ২৫তম ওভারে নবীর তৃতীয় বলে স্কয়ার লেগ দিয়ে চার মেরে অর্ধশতক তুলে নেন লিটন। ৮ চারে ৬৫ বলে অর্ধশতক তুলে নিলেন তিনি। এটি লিটনের ক্যারিয়ারের চতুর্থ হাফ সেঞ্চুরি।

দুর্দান্ত ছন্দে লিটন-মুশফিক। ইতোমধ্যে দুজনের জুটিতে পেরিয়ে গেছে অর্ধশত রান। লিটনের ফিফটির পরেই এই জুটি হাফ সেঞ্চুরির দেখা পান। এর আগে সাকিবের সঙ্গে ৪৫ রানের জুটি গড়েছিলেন লিটন। এবার রশিদকে চার মেরে হাফ সেঞ্চুরি করলেন মুশফিকুর রহিম। ৩৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলে সুইপ করে মিড উইকেটে চার হাঁকিয়ে ৫৬ বলে ফিফটি করেন মুশফিক। তার ইনিংসে চারের মার ছিল ৬টি। এটি তার ক্যারিয়ারের ৪১তম অর্ধশতক। ৪১তম ওভারে রশিদ খানকে বাউন্ডারি মেরে ওয়ানডেতে নিজের পঞ্চম শতক তুলে নিলেন তিনি। ১৪টি চারে ১০৭ বলে শতকের দেখা পান লিটন। আউট হওয়ার পূর্বে ১৩৬ রান করেন লিটন দাস।

১২৬ বলে খেলা এই শৈল্পিক ইনিংসটি ১৬টি চার এবং দুটি ছয়ে সাজানো। এদিকে মাত্র ১৪ রানের জন্য সেঞ্চুরির দেখা পাননি মুশফিক। তিনি থেমেছেন ৮৬ রানে। তার ইনিংসটি ৯টি চারে সাজানো। লিটন-মুশফিক মিলে তৃতীয় উইকেটে গড়েন ২০২ রানের জুটি। এটি আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ তৃতীয় উইকেট জুটি। ততক্ষণে রান পাহাড়ে পিষ্ট হয়ে গেছে আফগানিস্তান। শেষ ৩ ওভারে ১৯ রান যোগ করে টাইগাররা। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৬ রানে এবং আফিফ হোসেন ১৩ রানে অপরাজিত থাকেন। বল হাতে আফগানিস্তানের ফরিদ ২টি এবং ফারুকি ও রশিদ খান ১টি করে উইকেট নেন।