ইউক্রেনের রাজধানীতে ঢুকে পড়েছে রুশ সেনাবাহিনী

অবশেষে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ঢুকে পড়েছে রুশ বাহিনী। পার্লামেন্ট ভবন থেকে ৫ মাইল দূরে এখন তাদের অবস্থান। এক টুইট বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ নিতে সব নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। যুদ্ধে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী অপ্রাপ্ত বয়স্ক হলেও আপত্তি নেই বলে জানিয়েছে ইউক্রেন সরকার।

এদিকে রুশ বিমান হামলায় ২৫ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। আহতের সংখ্যা প্রায় শতাধিক। অন্যদিকে ইউক্রেন দখলের কোন পরিকল্পনা রাশিয়ার নেই বলে জানিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই লাভরভ। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ইউক্রেনকে নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্যেই রাশিয়ার এই অভিযান।

এর আগে অস্ত্র বিরতির আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। এসময় রাশিয়াকে রুখতে কেবল নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে পশ্চিমা বিশ্বকে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি।

ইউক্রেনে রুশ হামলার দ্বিতীয় দিনে রাজধানী কিয়েভে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, ২৪ ঘণ্টায় ৩৩টি বেসামরিক এলাকায় বোমা হামলা চালিয়েছে মস্কো। পাল্টা হামলায় ৮শ রুশ সেনা হতাহতের পাশাপাশি ৩০টি ট্যাঙ্ক বিধ্বস্তের দাবি করেছে ইউক্রেন। এছাড়া ৭টি যুদ্ধবিমান ও ৬টি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার দাবিও করেছে কিয়েভ।

এর আগে রাজধানীর উপকণ্ঠে অস্তমেল বিমানঘাঁটি দখলে নেয় রুশ সেনারা। চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও চলে গেছে রুশদের দখলে।ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ফেসবুকের এক ভিডিও বার্তায় ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সেনা না পাঠানোর ঘোষণার সমালোচনা করেন। জেলেনস্কি যুদ্ধে ইউক্রেনকে একা ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ করেন।

এ সময় তিনি বলেন, আজ আমি ইউরোপের ২৭ জন নেতার সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু কেউই আমাকে আশানুরূপ কিছু বলতে পারেনি। তারা সবাই ভয় পাচ্ছে। তবে আমরা ভীত নই, যে কোনো কিছু করতে আমরা প্রস্তুত আছি।