আদালতে মামুনুল হক

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় চতুর্থ দফায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হককে নারায়ণগঞ্জ আদালতে আনা হয়েছে। সোমবার (৯ মে) বেলা ১১টার সময় তার বিরুদ্ধে করা ধর্ষণ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক(ইন্সপেক্টর) আসাদুজ্জামান জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে কাশিমপুর কারাগার থেকে নারায়ণগঞ্জের আদালতে আনা হয়। বেলা ১১টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক নাজমুল হক শ্যামলের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আদালতের কার্যক্রম শেষে আবার কাশিমপুর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হবে।

সাক্ষ্যদাতারা হলেন- নাজমুল হাসান শান্ত, মো. শফিকুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি সোহাগ রনি ও রতন মিয়া। চার্জশিটের ৯, ১০, ১১ ও ১২নং সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রকিব উদ্দিন আহমেদ।

আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক নয়ন বলেন, মামুনুল হকের বিপরীতে চারজনের সাক্ষ্যগ্রহণের কথা রয়েছে। সে জন্য মামুনুল হককে নারায়ণগঞ্জ আদালতে আনা হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাকে পুনরায় কাশিমপুর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়েল রিসোর্টে এক নারীর সঙ্গে অবস্থান করছিলেন মামুনুল হক। ওই সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এসে মামুনুল হককে ঘেরাও করেন। এ সময় হেফাজতের নেতাকর্মীরা এসে রিসোর্টে ব্যাপক ভাঙচুর করে। পরে ৩০ এপ্রিল সোনারগাঁ থানায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ মামলা করেন ওই নারী। তবে ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে আসছেন মামুনুল হক।

গত বছরের ৩ নভেম্বর মামুনুল হকের বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় বিচারকাজ শুরুর আদেশ প্রদান করা হয়। পরে ২৪ নভেম্বর প্রথম দফায় মামুনুল হকের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। গত ২৫ জানুয়ারি তৃতীয় দফায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু, রিসোর্টের আনসার গার্ড ইসমাঈল ও রিশিপশন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান।