মাহে রমজান শেষ হোক ক্ষমা প্রার্থনায়

246

ইস্তিগফার শব্দের অর্থ ক্ষমা প্রার্থনা করা। বান্দা তার কৃত অপরাধের জন্য যেকোনো সময় যেকোনো অবস্থায় আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নেওয়াকে ইস্তিগফার বলা হয়। বেশি পরিমাণে ইস্তিগফারকারীদের আল্লাহ বেশি ভালোবাসেন। এ জন্যই মহান আল্লাহ ইসলামের মৌলিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিধানের পাশাপাশি সাধারণ আমলের শেষেও ক্ষমা প্রার্থনার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। কেননা এর মাধ্যমে আমল পরিশুদ্ধ ও ত্রুটিমুক্ত হয়।

নিম্নে যেসব বিধান ও আমলের পর ইস্তিগফারের গুরুত্বারোপ করা হয়েছে সেগুলোর কয়েকটি তুলে ধরা হলো—

রমজান শেষে ইস্তিগফার

পবিত্র মাহে রমজান নিজেকে পাপমুক্ত ও পরিশুদ্ধ করার মাস। যে ব্যক্তি রমজান পেয়েও আল্লাহর ক্ষমা অর্জন করতে পারবে না, তার জন্য অপেক্ষা করছে ধ্বংস। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘ওই ব্যক্তির নাক ধুলোধূসরিত হোক, যে রমজান পেল কিন্তু তার গুনাহ মাফ করার আগেই তা বিদায় নিল।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৪৫)

তাই রমজান এখন শেষ মুহূর্তে। পবিত্র এই মাসজুড়ে যেসব ত্রুটি হয়েছে, এর জন্য ইস্তিগফারের বিকল্প নেই। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘পরনিন্দা রোজাকে ত্রুটিযুক্ত করে আর ইস্তিগফার রোজাকে ত্রুটিমুক্ত করে।’ (শুআবুল ঈমান, হাদিস : ৩৩৭১)

নামাজ শেষে ইস্তিগফার

আল্লাহর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরির গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নামাজ। ইসলামের এই প্রধানতম বিধান যেন ত্রুটিমুক্ত হয় সে জন্য নবীজি (সা.) সর্বদা নামাজের পর ইস্তিগফার পাঠ করতেন। সাহবি সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজ শেষ করে তিনবার ইস্তিগফার করতেন এবং বলতেন, ‘আল্লাহুম্মা আন্তাস সালাম, ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারকতা জাল জালালি ওয়াল ইকরাম।’ (অর্থাৎ হে আল্লাহ! আপনি শান্তিময় এবং আপনার থেকে শান্তি আসে। আপনি কল্যাণময় এবং সম্মান ও প্রতিপত্তির অধিকারী) (মুসলিম, হাদিস : ১২২১)