Home কৃষি ও অর্থনীতি সাভার ভ্যাট বিভাগে বেড়েছে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি

সাভার ভ্যাট বিভাগে বেড়েছে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি

নোমান মাহমুদ, সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ বিভিন্ন প্রতিকুলতার মধ্যেও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা পশ্চিমের অন্তর্গত সাভার ভ্যাট বিভাগ ২০১৮ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হয়েছে। তবে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে এই প্রবৃদ্ধির হার ছিলো ১৬ শতাংশ। প্রচেষ্টা খাতে নভেম্বর-২০১৮ মাসের মোট আদায় ছিলো ৪২ কোটি ৭৫ লক্ষ ১৮ হাজার টাকা। আর বছর জুড়ে ২০১৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মোট রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিলো ১৮৫ কোটি ৪২ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা।

২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রাজস্ব আদায় বেড়েছে ১৪ কোটি ৩২ লক্ষ ০৬ হাজার টাকা। যদিও এই বিভাগের আওতাধীন এলাকায় অন্যান্য বছরের তুলনায় সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন খাতে নির্মান, সরবরাহসহ বিভিন্ন কাজ কম হওয়ায় উৎসে খাতে রাজস্ব আদায়ের ঋনাত্মক প্রবৃদ্ধি ছিলো ১৬ শতাংশ। তবে উৎসে খাতে সাভার ভ্যাট বিভাগে রাজস্ব আদায় কম হলেও সাভার বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারনে এই বিভাগ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হয়েছে। উৎসে খাতে চলতি অর্থবছরের নভেম্বর-২০১৮ পর্যন্ত এই বিভাগে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৫৩ কোটি ৭২ লক্ষ ৫৯ হাজার টাকা।

কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট এর রাজস্ব বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তাদের রাজস্ব আদায়ে মূল চ্যালেঞ্জ ও ভুমিকা থাকে প্রচেষ্টা খাতে। প্রচেষ্টা খাত মূলত পণ্য ও সেবা খাত নিয়ে গঠিত। সেবা খাতের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন গার্মেন্টস টেস্টিং, বিজ্ঞাপন সংস্থা, স্টীল-কাঠ ফার্নিচার বিক্রয় কেন্দ্র, রেস্তোরা, গ্যারেজ-ওয়ার্কশপ, থিম পার্ক, কমিউনিটি সেন্টার, ক্যাবল অপারেটর।

অন্যদিকে পণ্য খাতের মধ্যে রয়েছে বিস্কুট, খাদ্যজাতদ্রব্য, ঔষধ, মশার কয়েল, কেমিক্যাল, প্যাকেজিং সামগ্রী, প্লাস্টিক দ্রব্য, ফুটওয়্যার, সুতা, অটোব্রিক্স, নন অটোব্রিক্স, বৈদ্যুতিক দ্রব্য, অ্যলুমিনিয়াম ফিটিংস, মেটাল কন্টেইনারসহ নানা পণ্য। আর এই সকল খাত থেকে আদায়কৃত রাজস্বই প্রচেষ্টা খাতের অন্তর্ভূক্ত।

অপরদিকে উৎসে খাতে রয়েছে বিভিন্ন যোগানদার, সাব-রেজিস্টার অফিস, নির্মান সংস্থা ও ইজারাদার। আর এই খাত থেকে রাজস্ব আদায় মূলত নির্ভর করে কোন এলাকায় সরকারী, আধা-সরকারী, স্বায়ত্ত্বশাসিত ও লিমিটেড কোম্পানীর নির্মান, সরবরাহসহ বিভিন্ন কাজের উপর।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কাস্টমস. এক্সাইজ ও ভ্যাট সাভার বিভাগে রাজস্ব আদায়ের পরিমান ছিলো ৬০০ কোটি টাকা। যার বিপরীতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কাস্টমস. এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের এই দপ্তরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ৭৯০ কোটি টাকা। তবে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের আলোকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের রাজস্ব আদায়েরা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হলেও গত অর্থবছরে চলমান ছিলো এমন অনেক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলতি অর্থবছরে বন্ধ থাকা, কিছু প্রতিষ্ঠান অন্যত্র স্থানান্তরিত হওয়াসহ অভ্যন্তরীন সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুসাওে কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মূসক অব্যাহতি সুবিধা প্রদানের কারনে চলতি অর্থবছরে সাভার বিভাগে সম্ভাব্য ১৮ দশমিক ৩৪ কোটি টাকা রাজস্ব প্রাপ্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, সুইচ পেপার কোয়ালিটি, মারহাবা সিনথেটিকস লিঃ, নোভেল্টা বেস্টওয়ে ফার্মা লিঃ, টাচি প্যাকেজিং, মেসার্স ক্রিস্টাল ফুটওয়ার লিঃ, মেসার্স চিটাগাং ফ্যাশন টেকনোলজি, প্রিসিশন এ্যালয় স্টিল, মেসার্স টেস্টি ফুড, সাদাত প্রিন্টিং এন্ড গাঃ এক্সেঃ, পদ্মা ক্যান্স এন্ড ক্লোজারস লিঃ-২, ও টাইম স্যুজ ম্যানুঃ কোং নামীয় এই ১০টি প্রতিষ্ঠান।

এদিকে ১০টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া, এসিআই ফুড প্রোডাঃ ও সুপার স্টার ইঞ্জিঃ নামের দুটি প্রতিষ্ঠান অন্যত্র স্থানান্তরিত হওয়াসহ মেসার্স ব্যুরো ভেরিতাস কনজ্যুমার প্রোডাক্টস নামের একটি প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি মূসক অব্যহতি সুবিধা প্রাপ্তির কারনে সাভার বিভাগে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের তুলনায় প্রচেষ্টা খাতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৮ কোটি ৩৪ লক্ষ ৩১ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় নিয়ে শঙ্কা তৈরী হয়েছে।

এছাড়াও কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা পশ্চিমের অন্তর্গত সাভার বিভাগের আওতাধীন এলাকায় গ্যাস নির্ভর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গুলোতে গ্যাসের চাপ কম থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন কার্যকর হওয়া উপলক্ষ্যে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গুলো তাদের সমস্ত জের সমন্বয় করে নেওয়ার পর আইনটি কার্যকর না হওয়ায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানগুলো বিপরিতে ট্রেজারী বেশী জমা হলেও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রারম্ভিক জের বেশী থাকার কারনে প্রদেয় বাড়লেও ট্রেজারী পূর্ববর্তী অর্থবছরের মত জমা না হওয়া এবং অন্যান্য অর্থবছরের তুলনায় এই বিভাগের আওতাধীন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গুলোতে একই সময়ে কার্যাদেশ কম থাকায় রাজস্ব আদায় কম হচ্ছে।

আর লক্ষ্যমাত্র অর্জনে এই বিষয়গুলোই এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে কাস্টমস. এক্সাইজ ও ভ্যাট সাভার বিভাগের কর্মকর্তাদের সামনে। তবে তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এত প্রতিকূলতার মধ্যেও এখানে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

চলতি অর্থবছরে লক্ষমাত্র অর্জনসহ প্রচেষ্টা খাতে রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি এবং লক্ষমাত্র অর্জনে এই বিভাগের বড় কয়েকটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা হয় ২০১৮ সালে ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাজেশন কর্তৃক ‘সার্টিফিকেট অব ম্যারিট’ এওয়ার্ডে ভুষিত হওয়া কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট সাভার বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ও ডেপুটি কমিশনার সাইদুল আলমের সাথে।

বিডি টোয়েন্টিফোর রিপোর্ট’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “দেশের চলমান উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখার স্বার্থে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। ডিসেম্বর মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন খাতে বিভিন্ন প্রজেক্টে কাজ শুরু হলে আশা করছি উৎসে খাতে আমাদের রাজস্ব বাড়বে। প্রচেষ্টা খাতের রাজস্ব যেন আরও বৃদ্ধি পায় সে লক্ষ্যে আমরা নির্মোহভাবে কাজ করে যাচ্ছি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দিক নির্দেশনা, আমাদের কমিশনার মহোদয়ের নিবিড় মনিটরিং এবং নেতৃত্বে সব অংশিজনদের সহযোগীতায় এ অর্থবছরের শেষ নাগাদ সাভার ভ্যাট বিভাগ এর রাজস্ব প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধিসহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হবো বলে আমি আশাবাদ ব্যক্ত করি।”

দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর উপর নির্ভর করে দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন। আর তাই রাজস্ব প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাগণ আগামীতেও সচেষ্ট ভূমিকা পালন করবে সকলের এমনটাই প্রত্যাশা।